ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে খুশি গৃহহীন ৪৪৬টি পরিবার - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, এপ্রিল ২৭, ২০১৯

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে খুশি গৃহহীন ৪৪৬টি পরিবার



সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর থেকে :
প্রধানমন্ত্রীর “যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” আশ্রয়ন প্রকল্প-০১ ও ০২ এর মাধ্যমে তৈরি করে দেয়া ঘর পেয়ে খুশি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ৪৪৬টি হত দরিদ্র, গৃহহীন পরিবার। গৃহহীন এসব মানুষেরা ঘর পেয়ে উপকৃত হয়েছেন বলে মনে করনে। আর জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যাশা এ প্রকল্প অব্যাহত রেখে অন্য গৃহহীনদেরও গৃহ নির্মাণ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মানবতার হাতকে আরো প্রসারিত করার। অপরদিকে প্রশাসনের দাবী, ঘরগুলো খুবই ভালোমানের হয়েছে, যা একটি পরিারের বসবাসের জন্য খুব উপযোগী।
 
বর্তমান চলমান প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার আশ্রয়ন প্রকল্প-০২ এর মাধ্যমে বোয়ালমারীর ৩৩১টি পরিবারের প্রত্যেককে ২৫৬ বর্গফুট (প্রস্ত ১৫.৫ফুট ও দৈর্ঘ্য ১৬.৫ফুট) জায়গার উপরে তৈরি করে দেয়া হয়েছে একটি করে বসবাসের উপযোগী ঘর। ঘরগুলো তৈরি হয়েছে টিন আর কাঠ দিয়ে। একই সাথে দেয়া হয়েছে একটি বাথরুম। এক সময় যে মানুষগুলোর মাথার উপর চাল না থাকায় রোদ, বৃষ্টি আর ঝড়ে কষ্ট পেতে হতো, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে তারা এখন রয়েছেন নিরাপত্তার মধ্যে। এর আগে একই উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্প-০১ এর মাধ্যমে ১১৫টি পরিবারের প্রত্যেককে ২৫৬ বর্গফুট (প্রস্ত ১৫.৫ফুট ও দৈর্ঘ্য ১৬.৫ফুট) জায়গার উপরে তৈরি করে দেয়া হয়েছে একটি করে বসবাসের উপযোগী ঘর। এভাবে ৪৪৬টি ঘরহীন মানুষ ঘর পেয়ে দারুন খুশি এই উপজেলায়।
 
পরমেশ্বরদি ইউনিয়নের উপকারভোগি নিহার বেগম বলেন, এক সময় আমাদের মাথার উপর চাল না থাকায় রোদ, বৃষ্টি আর ঝড়ে কষ্ট পেতে হতো, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে এখন আমরা নিরাপত্তার ভিতর রয়েছি। তিনি বলেন, অন্য যারা ঘরহীন রয়েছে সরকার তাদের কথা একটু ভাববে আমি এটাই চাই।
 
আরেক উপকারভোগি রুবেল বিশ্বাস বলেন, একটি ঘর না থাকায় খুব কষ্ট হতো। বৃষ্টি হলেই ঘর দিয়ে পানি পড়তো বৃষ্টির দিন। সারারাত জেগে জেগে কাটানো লাগতো কখনোও কখনোও। এখন সরকারের দেয়া একটি টেকসই মজবুত ঘর পেয়ে সেই দুঃখ আর থাকবেনা। এই জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
 
পরমেশ্বরদি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও প্রতিবেশী মোঃ শৈয়ব বিশ্বাস বলেন, এই এলাকার ঘরহীন গরীব মানুষেরা অনেক কষ্ট ছিলো একটি ঘর না থাকায়। এখন গৃহহীন মানুষেরা গৃহ পাওয়ায় খুশি আমরা। গ্রামের এসব দরিদ্র মানুষেরা সরকারের এমন সহযোগীতায় আবেগে আপ্লুত আমরা।
 
চতুল ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ প্রকল্পের বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা বাড়ছে জনসাধারণের। একই সাথে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকারও বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি প্রকল্প অব্যাহত রাখার আহŸান জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি।
 
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসন ঘরহীন মানুষের বরাদ্দের একলক্ষ টাকায় ভালো মানের এ ঘরগুলো এরই মধ্যে উপকারভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রকল্প অব্যাহত রেখে আরো গৃহীনদের গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হলে এটা সরকারের সাফল্যকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন এর আগে আশ্রয়ন প্রকল্প-০১ এর মাধ্যমে ১১৫টি পরিবারের প্রত্যেককে ২৫৬ বর্গফুট (প্রস্ত ১৫.৫ফুট ও দৈর্ঘ্য ১৬.৫ফুট) জায়গার উপরে তৈরি করে দেয়া হয়েছে একটি করে বসবাসের উপযোগী ঘর। সব মিলে দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে বোয়ালমারীতে ৪৪৬টি গৃহহীন অসহায় গরীব মানুষদেরকে ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে।
 
এদিকে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২১ ও ২০৪১ এর লক্ষমাত্রা অর্জনে এ প্রকল্পকে আরো বেগবান করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মানবতার হাতকে আরো প্রসারিত করবেন এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সকলের।

Post Top Ad

Responsive Ads Here