সময় সংবাদ ডেস্ক//
গেল সপ্তাহে হুট করেই বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে সব দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ভারত সফরের আগে এমন বড় ধরনের ঘটনাকে চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন বিসিবি প্রধান।
তবে সে ইস্যু ছাপিয়ে এখন বাংলাদেশে তথা গোটা ক্রিকেট বিশ্বের সব চেয়ে বড় আলোচনার বিষয় সাকিবের নিষিদ্ধ হওয়া। সব ধরণের ক্রিকেট থেকে আগামী ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে সাকিব আল হাসনকে। মঙ্গলবার আইসিসি এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
দুই বছরের মধ্যে এক বছর পুরোপুরি নিষিদ্ধ, আর বাকি এক বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা অর্থাৎ খেলতে পারবেন কিন্তু আবারও অপরাধ করলে শাস্তি হবে আরো কঠিন।অর্থাৎ ঠিক একবছর পর ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি ফের মাঠে ফিরতে পারবেন। তবে সাজার দ্বিতীয় বছরে খেলতে পারলেও বেশ কিছু শর্তের মধ্যে থাকতে হতে পারে সাকিবকে।
আইসিসি বলেছে, সাকিব আল হাসান যেহেতু তদন্ত কাজে সহযোগীতা করেছেন এবং তিনি তার দোষ স্বীকার করেছেন তাই এক বছর সাজা শিথিল করা হয়েছে।
আইসিসি বলছে, সাকিব ৩টি অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ২০১৮ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও আইপিএলে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব আসে সাকিবের কাছে। যা গোপন করেন তিনি।
আইসিসির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার প্রকাশ করা বিবৃতিতে সাকিবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এসময় দীপক আগারওয়াল নামক এক ভারতীয় জুয়াড়ির নামও প্রকাশ করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
২০১৮ সালে ১৯ জানুয়ারি ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ চলছিল। ওই সিরিজ চলাকালীন সাকিব-দীপকের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ম্যাসেজ আদান প্রদান করা হয়। এক পর্যায়ে কথোপকথনের দীপক সাকিবকে জিজ্ঞাস করেন, ‘আমরা কি আমাদের কাজ শুরু করবো। নাকি আইপিএল (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) পর্যন্ত অপেক্ষা করব?’এখানে ‘কাজ’ শব্দটি বলতে দলের ভেতরের খবর বোঝাতে চেয়েছিলেন।
২৩ জানুয়ারিতে আরেকটি ম্যাসেজ পান সাকিব ওই সময় দীপক বলেন, ভাই এই সিরিজে কোনও কিছু সম্ভব?
একই বছর ২৬ এপ্রিল। সাকিব তখন খেলছিলেন আইপিএল। ওইদিন সাকিবের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের মধ্যে ম্যাচ চলছিল। এসময় দীপকের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, সানরাইজার্স স্কোয়াডে কারা কারা রয়েছে।
এই তিন তথ্যের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত সাকিব ইস্যুতে তদন্ত কাজ পরিচালনা করে আকসু।
তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৭ সালে বিপিএল চলাকালীন সাকিবের কোনও এক ঘনিষ্ঠ লোকের মাধ্যমে ফোন নম্বর পেয়েছিলেন দীপক।

