উচ্চ রক্তচাপ মাপাতে বাড়ি থেকে ফার্মেসির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন বৃদ্ধা আমিরুন নেছা। পথিমধ্যেই অসুস্থ হয়ে সড়কে পড়ে তার মৃত্যু হয়। এতে ওই বৃদ্ধা করোনাভাইরাসে মারা গেছেন বলে সন্দেহ করে পালায় আশপাশে থাকা লোকেরা। এমনকি খবর পেয়ে আতঙ্কের কারণে ওই বৃদ্ধার লাশ নিতে আসেনি খোদ সন্তানরাও।
মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর নগরীর মোল্লাবাড়ি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। মৃত আমিরুন জেলার টঙ্গীর আউচপাড়ার ইয়াকুব আলী মোল্লার স্ত্রী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাড়িতে একা থাকতেন বৃদ্ধা আমিরুন। তার ছেলে মেয়ে মায়ের সঙ্গে থাকতেন না। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টায় নিজের বাড়ি থেকে রক্তচাপ মাপাতে ফার্মেসির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। পথিমধ্যে অসুস্থ হয়ে সড়কে পড়ে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর করোনাভাইরাস সন্দেহ করে পালিয়ে যায় স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও হাজী কছিমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের ৩০ জন সদস্য ঘটনাস্থলে যান। এরপর জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে ওই বৃদ্ধার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর’র লোকজন। ফাউন্ডেশনের কর্মীরা মৃত বৃদ্ধার স্বজন ও সন্তানদের খবর দেন। তবে খবর পাওয়ার পরও ওই বৃদ্ধার লাশ নিতে আসেনি ছেলে-মেয়ে বা স্বজনরা। পরে বুধবার সকালে ফাউন্ডেশনের কর্মীরাই ওই বৃদ্ধাকে দাফন করে।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম এম হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে আমাদের ফাউন্ডেশনের লোকেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর পেয়েও ছেলে-মেয়ে বা স্বজনরা লাশ নিতে আসেনি। পরে আইইডিসিআর নমুনা সংগ্রহ করার পর আমাদের কর্মীরা লাশটি দাফন করে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি এমদাদুল হক জানান, মৃত বৃদ্ধা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু করোনায় বৃদ্ধার মৃত্যু ভেবে সন্তানরাও লাশ নিতে আসেনি।
সময়/দেশ/প্রথ

