সময় সংবাদ ডেস্কঃ
হঠাৎ ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফেইলিউর-এর কারণেই পদ্মাসেতুর ১৭ নম্বর পিলারের সঙ্গে শাহ জালাল নামে রো রো ফেরির ধাক্কা লাগে। এ কারণে আগে থেকে যাত্রীদের সতর্ক করা সম্ভব হয়নি, তবে পুরো ফেরি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। যাত্রী ও কর্মীরা আহত হয়েছেন। পরে নিরাপদেই মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে নোঙর করে ফেরিটি।
শুক্রবার শিমুলিয়া ঘাটে নোঙর করার পর এ তথ্য জানিয়েছেন ফেরির চালক আব্দুল রহমান।
তিনি বলেন, সবকিছু ভালোভাবেই চলছিল। পদ্মাসেতুর সামনে আসার পর হঠাৎ ফেরির ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফেল করায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। ওই সময় নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি পিলারে গিয়ে ধাক্কা দেয়। তাৎক্ষণিক ব্রেক উঠিয়ে আবারো ফেরি চালু করতে পারি এবং গন্তব্যে পৌঁছে ভালোভাবে নোঙর করেছি।
এর আগে, শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে আসার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনায় রো রো ফেরি শাহ জালালের ইনচার্জ (ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার) আব্দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি’র এক আদেশে বলা হয়েছে- মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার রুটে চলচলারত রো রো ফেরি শাহ জালাল সঠিকভাবে পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় উক্ত ফেরির ইনচার্জ (ইনল্যান্ড মাস্টার অফিসার) আব্দুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষর্শীরা জানান, বাংলাবাজার থেকে কয়েকশ যাত্রী ও অর্ধশতাধিক যানবাহন নিয়ে ফেরিটি শিমুলিয়ায় আসছিল। পথে পদ্মাসেতুর পিলারের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ করেই ফেরি বন্ধ হয়ে সজোরে সেতুর পিলারে গিয়ে ধাক্কা লাগে। এতে যাত্রীদের কেউ মাথায়, কেউ পায়ে আঘাত পান। তীব্র ধাক্কায় ফেরির ভেতরে-বাইরে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ক্যান্টিনের গ্যাস সিলিন্ডার, প্লেট, ফ্রিজ ভেঙে গেছে।
গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সিরাজুল ইসলাম বলেন, পদ্মাসেতুর পিলারের সঙ্গে ফেরির ধাক্কা লাগার আগে কোনো রকম হুইসেল বা ঘণ্টা বাজানো হয়নি। এ কারণে যাত্রীরা সতর্ক হতে পারেনি।
এ ঘটনায় আহত ফেরির বাবুর্চি ইউসুফ আলী বলেন, আমি মাছ কাটছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেতুর পিলারের সঙ্গে ফেরির ধাক্কা লাগে। এতে ফেরির লোহার খুঁটির আঘাতে আমার মাথা ফেটে যায়। এছাড়া দো’তলায় থাকা ক্যান্টিনের তিনটি ফ্রিজে থাকা জুস ও পানীয়জলের বোতল এবং খাবার মেঝেতে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পদ্মাসেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুর কাদের বলেন, নদীতে চলাচলকারী যেকোনো নৌযানের ধাক্কা সহ্য করতে পারবে সেতুর পিলার। এমন নকশা করেই পিলারগুলো বানানো হয়েছে। এর প্রভাব সেতুর ওপর পড়বে না। পিলার সামান্য ভেঙে গেলেও তা সংস্কার করা হবে।

