| চার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শাবি শিক্ষক সমিতির সংহতি |
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে সরকারের কাছে চার দফা দাবি পেশ করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুসটু) শিক্ষক ইউনিয়ন।
রোববার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ চার দফা দাবি জানান।
তুলসী কুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চার দফা দাবি জানানো হয় শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড.
চার দফা দাবিগুলো হলো-
1. ‘আমি ছাত্র ও শিক্ষকদের ওপর পুলিশের বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। সরকারের উচিত অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।
2. ‘অনশন ভাঙতে যা করতে হবে তা বিলম্ব না করেই করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। '
3. ‘উপাচার্যের পদত্যাগ সরকারের বিষয়। আমরা এ ব্যাপারে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। "
4. "আমরা শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার সহিংসতায় না জড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।"
এদিকে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মানব প্রাচীর তৈরি করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ভিসি ভবনে পুলিশ ও সাংবাদিক ছাড়া কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না তারা। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিসির বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, যতদিন শিক্ষার্থীরা অনশনে থাকবে ততদিন ভিসির বাসভবন বিদ্যুৎবিহীন থাকবে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বেগম সিরাজুন্নেছা হলের অব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে হলের প্রভোস্টকে ফোন করলে প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ওইদিন মধ্যরাতে প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বাইরে এসে পরদিন সকাল ১১টায় আসার আশ্বাস দেন। পরের শুক্রবার শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে উপাচার্যের কাছে একটি প্রতিনিধি দল পাঠায়। এ সময় ভিসি এক মাস সময় চান। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে দাবি মেনে নিতে রাজি হয়েছেন। এদিকে গত শনিবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। সাধারণ ছাত্ররা এতে যোগ দিয়ে একে গণআন্দোলনে পরিণত করে। গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে ভিসিকে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানায়, পরে ভিসির সহায়তায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। ভিসির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ফলে ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছে শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভিসিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। ওই সময় ভিসি পদত্যাগ না করায় অনশনে বসেন শিক্ষার্থীরা।
মোঃসাইফুল্লাহ /সময় সংবাদ
