
"অচেনা’ পাটুরিয়ায় নেই চাপ | সময় সংবাদ"
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
রমজান ঈদেও পাটুরিয়া ঘাটে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। ফেরির অপেক্ষায় কাটাতে হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দীর্ঘ যানজট বরাবরের মতোই ছিল। কিন্তু পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় যেন এক অচেনা রূপে পরিণত হলো পাটুরিয়া ঘাট। ঈদে ঘরেমুখো মানুষ আর গাড়ির চাপ না থাকায় পাল্টে গেছে ঘাটের পুরোপুরি চিত্র।
ট্রাক টার্মিনালে আগে ট্রাকের জট থাকলেও এখন প্রায়ই ফাঁকা। ঘাটে আসামাত্র ফেরি পার হতে পারছেন যাত্রীরাও। বৃহস্পতিবার দুপুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে।
ঈদের দুদিন বাকি থাকলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নেই যানবাহনের চাপ। এমনকি যাত্রীর চাপও নেই। পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় অনেক যানবাহন ও যাত্রী সেতু দিয়ে বাড়ি ফিরছে। ফলে চিরচেনা ব্যস্ততম পাটুরিয়া ফেরিঘাটে নেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
ঘাট এলাকায় দূরপাল্লার বাস ও ছোট গাড়ির কোনো সিরিয়াল নেই। ঘাটে যানবাহন আসামাত্র সরাসরি ফেরিতে উঠে যাচ্ছে। ট্রাক টার্মিনালে সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক থাকলেও তেমন অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। আগের দিনের চেয়ে ঘাট এলাকায় ঘরমুখো মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। তবে নৌরুটে পর্যাপ্ত ফেরি চলাচল করায় ভোগান্তি ছাড়াই পার হতে পারছে।
যশোরগামী যাত্রী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আশুলিয়ার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ছুটি পেয়ে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি। আশুলিয়া থেকে লোকাল বাসে করে পাটুরিয়া ঘাটে এসেছি। ঘাটে আসার পর ফেরিতে স্বস্তিতে উঠতে পেরেছি।
ভাড়ায়চালিত প্রাইভেটকার চালক হাবু মিয়া বলেন, সব-সময়ই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জেলায় ট্রিপ দেই। ঈদের সময় এ ট্রিপের সংখ্যা বেশি থাকে। প্রতি বছর পাটুরিয়া ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর ফেরিতে ওঠার টিকিট পেতাম। গতবারও ঈদের দুদিন আগে নৌপথ পার হতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘাট এলাকায় অপেক্ষা করছি। তবে এবার ঘাটের চিত্র পাল্টে গেছে। ঘাটে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফেরিতে উঠতে পারছি। ভোগান্তির নৌপথে স্বস্তিতে পার হতে পেরে ভালো লাগছে।
বাসচালকরা জানান, অনেকেই পদ্মাসেতু পার হয়ে যাতায়াত করছেন। তাই পাটুরিয়ার ঘাটে যানবাহনের চাপ কমে গেছে। ঘাটে এসে ফেরির জন্য আগের মতো আর অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। চালকদের চেয়ে যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি খুশি।
ট্রাকচালক নাসির উদ্দিন বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে নিয়মিত পারাপার হয়ে থাকি। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি পারাপার হতে গিয়ে তিন-চারদিন করেও ঘাটে পড়ে থাকতে হয়েছে। পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর এখন ঝামেলা নেই, ঠান্ডা মাথায় ঘাট পার হচ্ছি। আশা করছি আমাদের এখন আর আগের মতো কষ্ট করতে হবে না।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ২১টি ফেরির মধ্যে ১৮টি ফেরি দিয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ঘাট এলাকায় যাত্রী ও চালকদের কোনো ভোগান্তি নেই। পদ্মাসেতু চালুর পর থেকে এ নৌপথে যাত্রী ও যানবাহন অনেকাংশে কমে গেছে।
