ঢাকাবাসীর প্রিয় মিরকাদিমের বুইট্টা-ধবল গরু | সময় সংবাদ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, জুলাই ০৭, ২০২২

ঢাকাবাসীর প্রিয় মিরকাদিমের বুইট্টা-ধবল গরু | সময় সংবাদ

 

"ঢাকাবাসীর প্রিয় মিরকাদিমের বুইট্টা-ধবল গরু | সময় সংবাদ"

নাদিম হোসাইন, মুন্সীগঞ্জ 


ধলেশ্বরী ও ইছামতির তীরে অবস্থিত মুন্সীগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভা। ধলেশ্বরীর তীরবর্তী মিরকাদিমের একপাশে রয়েছে প্রাচ্যের ড্যান্ডি নারায়ণগঞ্জ। অপরদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ। পৃথক দুটি নদীর তীরবর্তী এ মিরকাদিমের ধবল ও বুইট্টা গরু কোরবানিতে পুরান ঢাকাবাসীর কাছে বেশ প্রিয়।

ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ বছর ধবল ও বুইট্টা জাতের গরুর লালন পালনে বেশ আগ্রহ দেখা গেছে মিরকাদিমের খামারিদের। ঈদ সামনে রেখে ধবল ও বুইট্টা গরু পালনে ব্যস্ত তারা।



 

ঢাকার রহমতগঞ্জের কোরবানির পশুর হাটেই মূলত মিরকাদিমের ধবল ও বুইট্টা জাতের গরুর পসরা বসে থাকে। প্রায় এক বছর আগেই এ পশুর হাট ঘিরেই মিরকাদিমের খামারিরা ধবল ও বুইট্টা গরু লালন পালন শুরু করেন। তবে এখন আর মিরকাদিম জুড়ে এ গরু লালন পালনের চিত্র দেখা যায় না। তারপরও এ বছর অন্তত ডজন খানেক খামারি ধবল ও বুইট্টা গরু লালন পালন করে আসছেন। 


সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরকাদিম পৌরসভার রামগোপালপুর ও এনায়েত নগর গ্রামে বুইট্টা ও ধবল গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে ক্রমাগত লোকসান ও গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে কমেছে খামারের সংখ্যা। এক কথায় মিরকাদিমের ধবল গরু ও বুইট্টা গরু এখন বিলুপ্তির পথে। তাই ধবল গরুর পাশাপাশি নেপালি, মন্ডি, হাঁসা,পশ্চিমা ও সিন্ধি জাতের গরু পাওয়া যায় মিরকাদিমে।


স্থানীয় খামারিরা জানায়, বিশেষ কৌশলে পালন করায় এসব গরুর গোশত সুস্বাদু হয়। সাধারণত খৈল, ভুসি, খুদ ইত্যাদি খাওনো হয়। তাই দাম এবং চাহিদাও থাকে বেশি। পুরোনো ঢাকার রহমতগঞ্জসহ রাজধানীর বড় বড় কোরবানির হাটগুলোতে দেখা মিলবে এসব গরুর। তবে কয়েক বছর ধরে পুরান ঢাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা মিরকাদিমে গরু কিনতে আসেন ঈদের কয়েক মাস আগেই। তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরু পছন্দ হলেই ক্রয় করেন এবং ঈদ পর্যন্ত গৃহস্থদেরই গরু পালনের দায়িত্ব ও খরচ দিয়ে যান। ফলে কোরবানির হাটে ওঠার আগেই অনেক গরু বিক্রি হয়ে যায়। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পরিবারগুলো এখরো মিরকাদিমের গরু কোরবানিকে পারিবারিক ঐতিহ্য মনে করে থাকেন। 


মিরকাদিম এগ্রোর মালিক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, অনেক দিন এ পেশা থেকে সরে ছিলাম, এখন আবার গত দুই বছর ধরে আবার নিয়মিতভাবে গরু পালন করছি। সাদা বুইট্টি গরু চয়েজের ওপর বিক্রি। এটার দাম বলতে কিছু নেই। এটা শুধু পছন্দের ওপর বিক্রি করি। বুইট্টা গরু দেখতে অনেক সুন্দর আর এই সুন্দরের ওপরেই দাম হাঁকানো হয়। তবে এক একটা বুইট্টা গরুর দাম ৮০ হাজারেও বেশি হয়ে থাকে। খামারে ৮টি বুইট্টা গরু রয়েছে। দাম ভালো পেলে আগামীতে আরো বেশি করে গরু পালন শুরু করা হবে। 


তিনি বলেন, আমার খামারে ৪ ধরনের গরু আছে, সাদা গরিয়ান, মিরকাদিমের গাভি সাদা ও সাইওয়াল লাল আছে। সাইওয়াল লাল ষাঁড়সহ অস্ট্রেলিয়ার ক্রস মিলেই আছে। গো-খাদ্যের যে দাম এতে গরু লালন পালন শেষে কিছুই থাকে না। খামারে নিয়মিত ১৫ জন লোক কাজ করছেন। 


খামারি ইমন বেপারী বলেন, মিরকাদিমের ঐতিহ্য হলো ধবল ও বুইট্টা গরু এবং মিরকাদিমের হাফসা। আমাদের মিরকাদিমে আগে প্রচুর খামারি বুইট্টা ও ধবল গরু লালন পালন করতো। আসতে আসতে খামারিরা অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছে। আমার খামারে ৭০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে বুইট্টা গরু রয়েছে ২০টি এবং ধবল রয়েছ ৩০টি মতো। আমরা দুই ভাই গরুর পরিচর্যা করি।




Post Top Ad

Responsive Ads Here