২৪ ঘণ্টায় পাকছে কাঁচা কাঁঠাল, কোষে কোষে বিষ | সময় সংবাদ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, জুলাই ০৬, ২০২২

২৪ ঘণ্টায় পাকছে কাঁচা কাঁঠাল, কোষে কোষে বিষ | সময় সংবাদ

 

"২৪ ঘণ্টায় পাকছে কাঁচা কাঁঠাল, কোষে কোষে বিষ | সময় সংবাদ"

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি


মধুমাসে জাতীয় ফল কাঁঠাল অনেকেরই পছন্দ। আর এ ফলটি পাকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল ইথিফন। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পেকে যাচ্ছে কাঁচা কাঁঠাল। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় ব্যবহার করছেন এসব বিষাক্ত কেমিক্যাল। অনেকটা জোর করেই পাকানো হচ্ছে কাঁঠাল। এভাবে কাঁঠাল পাকানোর ফলে কোষে কোষে বিষ ছড়িয়ে পড়ছে।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের দুই-তৃতীয়াংশ পাহাড়ি এলাকা থাকায় মৌসুমি ফল আনারস, আম, কলাসহ ব্যাপক পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদন হয়। উপজেলার প্রায় ২০টি বাজারে প্রতিদিন সকালে কাঁঠালের হাট বসে। গারোবাজার, সাগরদিঘী, জোড়দিঘী, রামদেবপুর, শহরগোপিনপুর, ধলাপাড়া, দেওপাড়া, দেলুটিয়া, ছনখোলা, চাপড়ী বাজার, পেচারআটা, মাকড়াই, কুশারিয়া, পাকুটিয়া বাজারসহ বেশ কিছু হাটে ব্যাপক পরিমাণের কাঁঠাল আমদানি হয়। এসব কাঁঠাল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।



 

এছাড়া ঘাটাইলের পার্শ্ববর্তী উপজেলা মধুপুর ও সখিপুরেও ব্যাপক পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদন হয়। এসব কাঁঠাল পাকাতে এখন আর প্রকৃতির ওপর নির্ভর করছেন না অনেকেই। মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অধিক মুনাফা লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে কাঁচা কাঁঠাল পাকাচ্ছেন। কাঁঠাল পাকাতে তারা বিষাক্ত ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথাইড, কপার সালফেট, পটাশের তরল দ্রবণ, কার্বনের ধোঁয়া, রাইপেন জাতীয় বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি লোহার শিক দিয়ে কাঁঠালে প্রবেশ করাচ্ছেন। এক কথায় বলতে গেলে সরাসরি বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে।


স্থানীয় ভাষায় রাসায়নিক প্রয়োগের এ পদ্ধতিকে ‘শিক মারা’ বলে। প্রায় দেড় ফুট লম্বা লোহার শিক কাঁঠালের বোটা বরাবর ঢুকিয়ে দিয়ে ছিদ্র পথে বড় সিরিঞ্জের মাধ্যমে কার্বাইড, ইথিফন ও রাইপেন জাতীয় বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করা হচ্ছে। পরে এক জায়গায় কাঁঠাল স্তূপ আকারে সাজিয়ে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে চাপা দিয়ে রাখলেই ১৮-২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কাঁচা কাঁঠাল পেকে যায়।


জানা যায়, ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি বাজারের নাম গারোবাজার। জেলার সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট বসে এখানে। সপ্তাহে রোববার এবং বুধবার বসে এ হাট। এছাড়া প্রতিদিনই এখান থেকে ট্রাকে করে কাঁঠাল যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে।


বেশি লাভের আশায় মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই কাঁচা কাঁঠালে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বিষাক্ত ইথিফন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে জোর করেই পাকাচ্ছেন কাঁঠাল। আর এসব রাসায়নিক দ্রব্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে হাতের নাগালেই পাওয়া যায়।


মধুপুর মহিষমারা গ্রামের কৃষক তায়েব আলী জানান, ইথিফনের সঙ্গে লবণ আর পটাশ মেশালে তা ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। হাতে বা শরীরের কোথাও লাগলে সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে যায়। অপরিপক্ব কাঁঠাল এভাবে পাকানোর ফলে মানুষ শুরুতে প্রতারিত হয়ে পরে আর কাঁঠাল কিনতে চায় না।

গারোবাজারের কৃষক জুলহাস উদ্দিন বলেন, বর্তমানে এ পন্থায় পাকানোর ফলে নষ্ট হতে চলেছে ঘাটাইলের কাঁঠালের সুনাম। পাশাপাশি কাঁঠালের বাজার নষ্ট হচ্ছে।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এসব রাসায়নিক পদার্থের ক্ষেত্রে ১৬ লিটার পানির মধ্যে ৫০ মিলি হচ্ছে সহনীয় মাত্রা। উচ্চ মাত্রায় এ ধরনের পদার্থের ব্যবহার মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, এক লিটার পানির মধ্যে ১০০ মিলি ব্যবহার করে তা কাঁঠালে প্রয়োগ করা হচ্ছে।


ঢাকা, কুষ্টিয়া, যশোর ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকাররা জানান, মৌসুম শুরুর আগেই বেশি লাভের আশায় তারা কাঁঠালে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে থাকেন। ৫০ টাকার একটি কাঁঠাল ঢাকায় দুইশ থেকে আড়াইশ’ টাকায় বিক্রি করা যায়। ঢাকা শহরে কেউ কাঁচা কাঁঠাল কিনতে চায় না। সবাই পাকা কাঁঠাল চায়। তাই সবগুলোতে মেডিসিন দিতে হয়।


গারোবাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, এ বছর কাঁঠালের মৌসুম শুরু হয়েছে একটু দেরিতে। তবে কাঁচা কাঁঠালে বিষাক্ত রাসায়নিক দেওয়া শুভ লক্ষণ নয়। এর প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।


এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুর রহমান খান বলেন, এসব রাসায়নিক মিশ্রিত কাঁঠাল খেলে আমাশয়, লিভার ডিজিজ, রাতকানা রোগ, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমাসহ ক্যানসারের মতো জটিল ও কঠিন রোগ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব খাদ্য গ্রহণ না করাই ভালো। এভাবে পাকানো ফল খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক মাত্রায় গ্যাস্ট্রিক, পেটে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।


এ বিষয়ে উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, ফল পাকানোর জন্য ইথিফন নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে ফুসফুস, হার্ট এবং কিডনিতে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে।


ইউএনও মুনিয়া চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এখন জানতে পারলাম। অচিরেই এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




Post Top Ad

Responsive Ads Here