সোয়া ২ কোটি টাকার ইয়াবা আত্মসাৎ: বাকলিয়া থানার ৮ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ০৬, ২০২৬

সোয়া ২ কোটি টাকার ইয়াবা আত্মসাৎ: বাকলিয়া থানার ৮ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত


সোয়া ২ কোটি টাকার ইয়াবা আত্মসাৎ: বাকলিয়া থানার ৮ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
সোয়া ২ কোটি টাকার ইয়াবা আত্মসাৎ: বাকলিয়া থানার ৮ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুনব্রিজ পুলিশ চেকপোস্টে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে এসআই থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।


মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং বৈধ আদেশ অমান্যের অভিযোগে পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল (পিআরবি) বিধি–৮৮০ অনুযায়ী এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


গত ৪ জানুয়ারি বিকেলে সিএমপির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার ও সদ্য অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত দুই পৃষ্ঠার অফিস আদেশে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।


বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার, বর্তমানে কোতোয়ালী থানায় কর্মরত এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, এএসআই মো. জিয়াউর রহমান, এএসআই মো. সাদ্দাম হোসেন, এএসআই এনামুল হক, কনস্টেবল মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা এবং নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না।


অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘দেশ ট্রাভেলস’-এর একটি এসি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৬৪২) নতুনব্রিজ পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল মো. ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।


তবে অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবা যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা আত্মসাৎ করেন। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ইয়াবার চালান বহনে সম্মত হয়েছিলেন। তিনি কোনো ছুটি না নিয়েই ইয়াবাভর্তি লাগেজসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।


অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, ইয়াবা উদ্ধারের পর কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন ‘সেফ এক্সিট’ চেয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কাছে অনুনয় করেন। এ সময় ট্রলি ব্যাগ থেকে ইয়াবার একাধিক কাট বের করে নেওয়া হলেও পুরো চালান পুলিশের হেফাজতে রেখে কেবল কাপড়চোপড়সহ ব্যাগটি তাকে ফেরত দেওয়া হয়।


পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। তবে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনের স্বীকারোক্তি, বাসের সুপারভাইজারের বক্তব্য এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যের জবানবন্দিতে পুরো ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়।


সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর পাঠানো বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রতিবেদনে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তারা সংঘবদ্ধভাবে গুরুতর অনিয়ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও মাদকদ্রব্য আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।


বরখাস্তকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে নিয়মিত হাজিরা ও রোলকল প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



Post Top Ad

Responsive Ads Here