ধনবাড়ীতে চেয়ারম্যানের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ রুমা - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৮

ধনবাড়ীতে চেয়ারম্যানের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ রুমা

হাফিজুর রহমান, ভ্রাম্যমান  প্রতিনিধিটাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূ রুমাকে নির্যাতন করেছে বলে ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছে নির্যাতিত রুমা।
জানাগেছে, ধনবাড়ী উপজেলার ২ নং বানিয়াজান ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের মৃত শুকুর আলীর মেয়ে রুমা(২৪) কে বিভিন্ন সময় রাস্তায় একা পেয়ে চেয়ারম্যান সামছুল আলম তালুকদার বাবুল খারাপ কু-প্রস্তাব দিত। এতে রাজি না হওয়ায় রুমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বেধড়ক মারপিট করেছে। এব্যাপারে নির্যাতিতা রুমা ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েও সঠিক বিচার পাচ্ছে না।

নির্যাতনের শিকার রুমা  ও তার পরিবার জানায়, গত রবিবার দিন সন্ধ্যায় নিজের ব্যাক্তিগত কাজে বাড়ী থেকে অটো গাড়ী যোগে দিগপাইত উপশহরে যাওয়ার পথে বাবুল চেয়ারম্যান আগে থেকেই উৎপেতে থেকে রাস্তার মাঝ পথে অটো থামায়। অটো থামিয়ে বাবুল  চেয়ারম্যান ও অরেকজন অপরিচিত লোক  দুই জনে আমাকে অটোর ভিতরে আমার উড়না দিয়ে আমার মুখ বাঁধে এবং কী চেয়ারম্যানের সাথে থাকা মাঝ বয়সী লোকটি কেও রশি দিয়ে বাঁধে আর চেয়ারম্যান বলে আপনি বসেন আগে ওকে শিক্ষা দেই। এই বলে দুইজন কে একত্রে করে বানিয়াজান ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। তারপর চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমাকে রাতভর  শরীরের বিভিন্ন গোপন জায়গায়  গোল রুলার বেত দিয়ে উপর্যুপরি মারপিট করে। এবং কী বাবুল চেয়ারম্যান আমাকে তার সাথে পরিষদের দ্বিতলার রুমে যেতে বলে একসাথে রাত কাটানোর জন্য। আমি তার কথায় রাজি না হওয়ায় ঐ লোকটিকে দিয়ে আমাকে মারপিট করায়। আর বলে তোর বিচার করবো সকাল বেলায়। পরের দিন সকালে চেযারম্যান আবারো এলাকার  তার লোকজন ডেকে ৩০-৩৩ টি বেত্রাঘাত করে। এবং কী আমার তলপেট ও গোপনাঙ্গে  এলোপাথারী লাথি মারে। এতে আমার যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরন হতে থাকে। নির্যাতিতা রুমা বলে শুধু আমাকেই নয় চেয়ারম্যান তার বউ কে রেখে আরো ৪ টি বিয়ে করেছিলো। এবং কী বানিয়াজান ঘোনাপাড়া এলাকার রফিক মাষ্টারের ছোট ভাই প্রবাসীর বউ এর সাথে  আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসী হাতে নাতে ধরে ধনবাড়ী থানা পুলিশে সোপর্দ করে। আমি এই ঘটনার সঠিক উপযুক্ত বিচার চাই।
পঞ্চাশী চাঁনপুর গ্রামের হারুন সহ আরো কয়েক ব্যাক্তি জানায়, রুমাকে মারছে ঘটনা সঠিক। রুমার বিচার তো হলো না । তবে চেয়ারম্যান যে মারপিট করছে তা ঠিক করেনি। আমরা এর সঠিক চিার দাবী করছি।
নাম প্রকাশ না করার শতে খানপুর গ্রামের কয়েক একব্যাক্তি জানায়, বাবুল চেয়ারম্যান আগে থেকেই লুচ্চা । শুধু রুমা নয় অন্য মানুষের বউ সহ স্কুল কলেজের ছাত্রীরা ইউনিয়ন পরিষদে কোন কাজে গেলে  কাজের কথা বলে তার ফোন নাম্বার নিয়ে বেকায়দায় ফেলে খারাপ কাজ করে। বাবুল চেয়ারম্যান যে বাপ মরা রুমা মেয়েটির সাথে যে ব্যবহার করেছে অন্যায় ভাবে মারপিট করছে। তার সঠিক বিচার দাবী করছি। 
বানিয়াজান ইউনিয়নের স্থানীয় আওয়ামীলীগের কয়েক নেতা ও এক মেম্বার  নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, বাবুল চেয়ারম্যান রুমা মেয়েটিকে বেধড়ক মারপিট করায় তার গোপনাঙ্গ দিয়েও লাথি মেরে আঘাত করেছে। মেয়েটির পরিবার গরীব বলে তারা বিচার পাচ্ছে না।  বাবুল চেয়ারম্যানের অপকর্মের শেষ নেই। কারণ বাবুল চেয়ারম্যান সহ শিরনকাজী এলাকার মেম্বার স্বপন এরা দুজনে মাদক সেবন কারী ও মাদক ব্যবসায়ী । তিনি পরিষদে গিয়েই রুমের দরজা লাগিয়ে  ও কেচি গেট বন্ধ করে দিয়ে ইয়াবা, গাঁজা ও হিরোইন সহ সকল ধরনের নেশা করে। একবং কী বিভিন্ন ধরনের খারাপ মহিলাদের নিয়ে রাত যাপন করে ও দিন কাটায়। বর্তমানে কিছু দিন আগে ভিজিডি কার্ডেও চাল বিতরণের দ্বিতীয় দিন গভীর রাতে বাবুল চেয়ারম্যান ও স্বপন  মেম্বার  দুজনে মিলে ৩৩ হাজার টাকার চাউল বিক্রি করে। এবং কী অটো ভ্যান দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ অঙ্গিনা পার করে যাতে কেউ কোন শব্দ না পায়। খারাপ চরিত্রধিকারী সামছুল আলম তালুকদার  বাবুল চেয়ারম্যানের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রুমা নির্যাতন কারী স্বপন মেম্বারের সাথে কথা বলার জন্য পরিষদে গেলে পাওযা যায়নি তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
০২ নং বানিয়াজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল তালুকদারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি রুমার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমার সাথে রুমার সাথে কোন সর্ম্পক নেই তবে রুমা  তার স্বামী কে রেখে অন্য একটি শেরপুরের ছেলের সাথে পালিয়ে যাচ্ছিলো । আমি দেখতে পেয়ে তাদের কে আটক করে পরিষদে এনে এলাকার লোকজন দের কে নিয়ে সালিশ করে মিটিয়ে দিয়েছি।  আর বিদেশীর বউটির কাছে আমি রাতে তার ঔষুধ দিতে যাই আমি আবার চেয়ারম্যান হওয়ার আগে পল্লী চিকিৎসক চিলাম  ঔষুধ দিতে গেলে আমার কিছু শত্রæুপক্ষ আমাকে মিথ্যা ভাবে ফাসিয়ে দিয়েছিলো। 

Post Top Ad

Responsive Ads Here