ফরিদপুর প্রতিনিধি :
চিঠিতে এক হিন্দু সিআইপিকে বিশেষ অতিথি করায় বন্ধ করে দেয়া হলো বঙ্গেশ্বরদী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সদর উপজেলার চাদঁপুর ইউনিয়নের বঙ্গেশ্বরদী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
এর আগে একই ইউনিয়নের পাশের ধোপাডাঙ্গা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ করে দেন অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুন নাহার মহিদ। সেসময় তিনি স্কৃুলে কেন তার পরিবারের সদস্যদের নাম চিঠিতে নিচে দেয়া হলো এই দোহাই দিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।
আর এবার কেন ধোপাডাঙ্গা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, টেকনো মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থপনা পরিচালক ও বেঙ্গল ব্যাংকের পরিচালক সিআইপি ড. যশোদা জীবন দেবনাথ একজন হিন্দু ধর্মাবলী লোকের নাম কেন দেয়া হলো চিঠিতে এই কারনে বন্ধ করতে বলেছেন চেয়ারম্যান বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সকল কার্যক্রম বলে অভিযোগ করেছেন বঙ্গেশ্বরদী সম্মলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাটি হওয়ার কতা ছিলো সোমবার।
বঙ্গেশ্বরদী সম্মলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ এসোসিয়েশনের পরিচালক মো: খায়ের মিয়া সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, স্থানীয় অভিভাবকগনের ব্যাপক অনুরোধের পরিপেক্ষিতে ২০১৬ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি হিসাবে প্রথম দায়িত্ব গ্রহন করি এবং স্কুলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের সম্পুর্ণ বিনা মুল্যে লেখাপড়ার সুযোগ, বিনা মুল্যে কোচিং ,সমস্ত ছাত্র ছাত্রীদের বিনামূল্যে পোশাকের কাপড় বিতরন, অবকাঠামো উন্নয়ন সহ নিজ উদ্যোগে দুই জন অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ করে লেখাপড়ায় উন্নয়ন সহ ব্যাপকভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড করি এবং তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ আবারও আমার প্যানেল নির্বাচনে জয়লাভ করলে আমি দ্বিতীয় বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হলে অত্র চাঁদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব শামসুন্নাহার মহিদ বিভিন্ন ভাবে নির্বাচনটি বানচাল করার জন্য ষড়যন্ত্র করলেও আমাদের মুরুব্ববি ফরিদপুর ০৩ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপে সে ষড়যন্ত্রে সুবিধা করতে পারেন নাই। সে সময় তিনি আমার প্যানেলের বিপরীতে তার পছন্দের প্যানেল দিয়েছিলেন। এরপরও আমরা স্কুলের সমস্ত অনুষ্ঠানে তাকে আমরা সম্মানিত করে নিমন্ত্রন করে থাকি কিন্তু বার্ষিক ক্রীয়া প্রতিযোগিতা ২০১৯ উপলক্ষে তাকে দাওয়াত দিতে যাওয়ার পর তিনি দাওয়াত পত্র দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং আমাদের সম্মানিত বিশেষ অতিথী সিআইপি ড. যশোদা জীবন দেবনাথ এর নাম দেখে তাকে মালাউনের বাচ্চা বলে গালি দিয়ে বলেন তাকে কেন অতিথী করা হইলো? এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য তিনি নিজে অতিথী তালিকা দিবেন এবং সেই অনুযায়ী চিঠি করে পরবর্তীতে অনুষ্ঠান করতে হবে, তা না হলে তিনি অনুষ্ঠান করতে দিবেন না বলে ঘোষনা দেন। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা কওে সোমবার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান স্থগিত করা হইলো। সেই সাথে বর্ণবাদ বৈষম্যের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন তাকে আনতে পারলে আমার স্কুলের উন্নয়নের জন্য ভূমিকা নিতে পারতেন আর এ কারনেই তার নামটি দিয়েছিলাম।
অত্র স্কুলের এক শিক্ষক দুঃখ করে বলেন, শুধু নামের কারনে যদি একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ করে দেয় তাহলে এর চেয়ে দুঃখের কিছু নেই। শেষ পর্যন্ত যতটুকু জানি শুধু নামের কারনে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হলো। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক আশা নিয়ে ছিলো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হবে। তারা সারাদিন মাঠে আনন্দ করবে কিন্তু তা আর হলো না।
এ ব্যাপারে জানতে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুন নাহার মহিদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার পরিবারের নাম নিচে দিয়েছে। এটা আমার লোকজন মেনে নিতে পারছে না। যে কারনে আমরা এই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হতে দিতে পারিনা। তিনি বলেন, আমাদের বংশের জমির উপর স্কুল আর আমার স্বামীসহ অন্যদের নাম কেন নিচে দেয়া হলো।
এ ব্যাপারে জানতে অত্র চাদঁপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুন নাহার মহিদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনারা এলাকায় এসে নিউজ করেন। আপনাদের সাথে মোবাইলে কোন কথা নেই। সামনাসামনি আসেন যা সত্যি তাই তুলে ধরেন। এই দুটি স্কুল আমার এলাকায় আর এই দুটি স্কুল নিয়ে স্কুল দুটির সভাপতি খুব জামেলা শুরু করেছে। আপনাদের সাথে মোবাইলে কোন কথা হবে না। এই বলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।
এ ব্যাপারে জানতে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুন নাহার মহিদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার পরিবারের নাম নিচে দিয়েছে। এটা আমার লোকজন মেনে নিতে পারছে না। যে কারনে আমরা এই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হতে দিতে পারিনা। তিনি বলেন, আমাদের বংশের জমির উপর স্কুল আর আমার স্বামীসহ অন্যদের নাম কেন নিচে দেয়া হলো।
এ ব্যাপারে জানতে অত্র চাদঁপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুন নাহার মহিদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনারা এলাকায় এসে নিউজ করেন। আপনাদের সাথে মোবাইলে কোন কথা নেই। সামনাসামনি আসেন যা সত্যি তাই তুলে ধরেন। এই দুটি স্কুল আমার এলাকায় আর এই দুটি স্কুল নিয়ে স্কুল দুটির সভাপতি খুব জামেলা শুরু করেছে। আপনাদের সাথে মোবাইলে কোন কথা হবে না। এই বলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।

