করটিয়ায় চলছে ক্রিকেট জুয়ার মহোৎসব - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৯

করটিয়ায় চলছে ক্রিকেট জুয়ার মহোৎসব

জাহাঙ্গীর আলম, টাঙ্গাইল-টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার করটিয়ায় সর্বত্রই এখন চলছে ক্রিকেট জুয়া খেলার মহোৎসব। করটিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও বাজারে ছোট ছোট চায়ের দোকনে প্রকাশ্যে চলছে এই সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের মারাত্মক ব্যধি ক্রিকেট জুয়া। দিন দিন কিশোর, যুবক, বৃদ্ধরা জড়িয়ে পড়েছে এই মারাতœক সর্বনাশা জুয়া খেলায়।


সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল জেলার করটিয়া বাজার ও বিভিন্ন অলিগোলির চায়ের দোকানে সন্ধ্যা হলে বিপিএল জুয়ায় মেতে উঠেছে শত শত জুয়ারি। এদের অধিকাংশই রিকশা চালক, দিনমজুর, মধ্যবিত্ত, যুবক ও ছাত্র সমাজ। জুয়ার অংক এক’শ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত চলে। জুয়া চলে খেলার ধরণ অনুযায়ী, প্রতি বল, প্রতি ওভার ও ম্যাচ হিসেবে চলে এই বাজি এবং খেলা শুরু হওয়ার নির্ধারিত কিছু সময়ের পূর্বেই একে অপরে ডান বললেই থাকে বাজি। 

সুমন নামের কলেজ ছাত্র জানায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা বাজলে জুয়া খেলা দেখতে চলে যায় পাড়ার চায়ের দোকানে। বিপিএল জুয়ার কথা তাকে জিজ্ঞেস করা মাত্রই সে বলে গত শুক্রবার জুয়ার বাজিতে নাকি ১৭০০ টাকা লাভ হয়েছে তার। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সবাই জড়িয়ে পড়ছে এই বিপিএল জুয়া খেলায়।

এই বিপিএল খেলায় করটিয়াতে রয়েছে বড় বড় জুয়ারি। তারা প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ ম্যাচ প্রতিটি অঞ্চলে তাদের বাহামভূক্ত লোক দ্বারা ফোনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। খেলা শেষ হলে তাহারা লাভ-ক্ষতির টাকা বাহামভূক্ত লোকদের দ্বারা বুঝিয়ে নেয়। ঢেলী করটিয়ার ছদ্মবেশী সাবানা নামের এক মহিলা বলেন, আমার স্বামী বিদেশ থেকে আসিয়া করটিয়া বাজারে সুনামের সহিত ব্যবসা করিয়া আসিতেছিল। দুই সন্তান নিয়ে সুখে শান্তিতে আমি সংসার করিয়া আসিতেছিলাম। হঠাৎ এ সর্বনাশা খেলায় আমার স্বামীর ব্যবসায়িক মূলধন, তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল ও বসতবাড়ী পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছে। আজ আমি বাপের বাড়ীতে উঠেছি। আমার সন্তান দুটিকে নিয়ে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছি।

করটিয়ার ছদ্মবেশী এক খেলোয়ার আরিফ হোসেন জানান, ভাই এই খেলা হিরোইন ও সর্বনাশা ইয়াবার চেয়েও মারাতœক। আমি প্রথম প্রথম ৫০০ টাকা করে বাজি ধরতাম বুকটা ধরপড় করতো। লাভও হতো। পরে ৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্তও ধরেছি। আমি আমার সম্পত্তি বিক্রি করেও এ খেলায় বাজি ধরেছি। আজ আমি সর্বশান্ত।

সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহন না করলে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু বলেন, এই খেলা একটা মরণব্যধি। অতি দ্রæত মাদকের মত এ খেলাকেও বন্ধ করা জরুরি।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সায়েদুর রহমান জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে যথাযথ তদন্ত করিয়া সনাক্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিব।

Post Top Ad

Responsive Ads Here