এবার ত্রাণ চাওয়ায় গালিগালাজের অভিযোগ চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধীর - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, মে ০১, ২০২০

এবার ত্রাণ চাওয়ায় গালিগালাজের অভিযোগ চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধীর

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে ৫৯ বছরের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে ত্রাণ না দিয়ে উল্টো গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ইউএনও'র নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার ৫নং বানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাদী হুমায়ুন কবীর, ওই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন ও তার চাচাতো ভাই মো. জাহাঙ্গীর মোল্যার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমানের নিকট এ অভিযোগ করছেন একই ইউনিয়নের উথলী গ্রামের বাসিন্দা মো. তারা মিয়া।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিভিন্ন সুবিধা কার্ড পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য’র কাছে বারবার গেলে তারা ওই প্রতিবন্ধিকে কোন প্রকার সুবিধা দিবে না এবং অকথ্য গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়। সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন তাকে মারপিট করবে বলে জনসম্মুখে প্রকাশ করে ও মারার জন্য অপচেষ্টা করে।


এলাকা সূত্রে জানা যায়, তারা মিয়া গত এক বছর আগে ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছে। তিনি একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী।  ফলে ঠিকমতো চলাফেরা ও কাজকর্ম করতে পারে না। প্রতিবন্ধী হলেও তিনি সরকারি কোন ভাতা পায় না। তারা মিয়ার পরিবারে বৃদ্ধ বাবা, তিন মেয়েসহ ৬ জন সদস্যের বসবাস। এ সংসার তারা মিয়ার স্ত্রী সেলাই মেশিনে সেলাই করে পরিচালনা করেন। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের কারণে সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে।


এ বিষয়ে তারা মিয়া বলেন, আমি এবং আমার পরিবার এ পর্যন্ত সরকারি কোন সহয়তা পায়নি। বারবার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নিকট বিষয়টি বলার পরেও কর্ণপাত করেনি। অবশেষে পেটের জ্বালায় গত বুধবার সরকারি হটলাইন '৩৩৩' নাম্বারে ফোন দিলে ইউএনও ডেকে আমাকে খাদ্য সহয়তা করেন।


তারা মিয়া এই প্রতিবেদককে আরো বলেন, 'আমি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে ইউএনও'র নিকট অভিযোগ করেছি বলে তারা আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকিধামকি দিচ্ছে এবং বর্তমান আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।'


ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন বলেন, 'তারা মিয়া ঢাকায় থাকে, ভোটারও ঢাকার। তবুও আমি বলেছি সরকারী নিয়মের মধ্যে থাকলে সুবিধা অব্যশই দেওয়া হবে। আর তার সাথে আমি কোনরূপ খারাপ ব্যবহার করিনি।'


বানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাদী হুমায়ুন কবীর বলেন, 'তারা মূলত ঢাকা থাকে। ওকে আমি গালিগালাজ করি নাই। এমনকি সে কোনদিন বোর্ড অফিসেও আসে নাই।'


অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান বলেন, 'বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মৎস কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি এবং ওই ব্যক্তিকে বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।'

Post Top Ad

Responsive Ads Here