সময় সংবাদ ডেস্কঃ
শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ কারণে উপকূলে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সাগরে নামতে প্রস্তুত হচ্ছেন চট্টগ্রামের প্রায় ১০ হাজার জেলে। গত কয়েকদিন ধরে তারা নৌকা ও জাল মেরামত করছেন। শেষ মুহূর্তে সাগর পাড়ে অপেক্ষা করছেন উপকূলীয় অঞ্চলের এ পেশাজীবীরা।
নির্বিঘ্নে মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ছোট মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে গত ২০ মে থেকে ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে মৎস্য বিভাগ। এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে শুক্রবার মধ্যরাতে।
মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালে আনোয়ারা উপকূলের এসব জেলেকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়। আনোয়ারা উপজেলা মৎস্য কার্যালয় জানায়, উপকূলে ৬০০টি মাছ ধরার নৌকা আছে। এর মধ্যে ফকিরহাটে ১৭০টি, উঠান মাঝির ঘাটে ২৮০টি, গলাকাটা ঘাটে ৩৫টি, সাত্তার মাঝির ঘাটে ৪৫টি, পিচের মাথায় ৩৫টি ও বাছা মাঝির ঘাটে ৪০টি। অন্য নৌকাগুলো পারকি ও জুঁইদণ্ডী এলাকার।
একদিন পরই সাগরে নামবেন। তাই শেষ মুহূর্তে জাল মেরামত করছেন জেলে ও মৎস্য শ্রমিকরা
একদিন পরই সাগরে নামবেন। তাই শেষ মুহূর্তে জাল মেরামত করছেন জেলে ও মৎস্য শ্রমিকরা
মাছ ধরার অপেক্ষায় রয়েছেন উপকূলের ১০ হাজারের বেশি জেলে। তারা জানান, তাদের সব রকম প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সাগরে প্রায় সব মা মাছই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ডিম ছেড়ে দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে জালে যে হারে ইলিশ ধরা পড়েছিল, এখন তার চেয়ে বেশি ইলিশ জালে আটকা পড়তে পারে।
সরেজমিনে আনোয়ারা উপকূলে দেখা গেছে, রায়পুরের দোভাষী বাজার, ওয়াহেদ আলী চৌধুরী হাট ও ফকির হাট থেকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পাশাপাশি ওষুধ কিনতে ব্যস্ত অনেক জেলে। বাকিরা শ্রমিকদের দিয়ে জাল ও নৌকা মেরামত করানো এবং নৌকায় জাল ওঠানোর কাজে মগ্ন।
রায়পুর ইউনিয়ন মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আবদুছ সোবহান বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর জেলেরা সমুদ্রে যাবেন। উপকূলজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। একেকটি ট্রিপের জন্য জেলেরা ২০-৫০ হাজার টাকার মালামাল কিনেছেন।
আনোয়ারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, আনোয়ারা উপকূলের ১০ হাজার জেলে সাগরে মাছ ধরার অপেক্ষায় আছেন। ২৩ জুলাই রাতে নিষেধাজ্ঞা শেষে নৌকাগুলো সাগরে চলে যাবে।

