![]() |
| সালথায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ |
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (রাত ৮টার দিকে) উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে নুরু মাতুব্বর ও জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে টর্চলাইট জ্বালিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গট্টি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নুরু মাতুব্বর ও জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। তারা দুজনই বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উভয়েই বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সহিংসতায় জড়ান তারা। এসব ঘটনায় উভয় নেতাকে কারাবাসও করতে হয়েছে।
জানা গেছে, চলমান বিরোধের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে বালিয়া গ্রামের মাঠে পেঁয়াজের জমিতে সেচ দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক মো. শহীদ শরীফ ও নুরু মাতুব্বরের সমর্থক জাহিদ শরীফের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে বালিয়া বাজারে উভয় পক্ষের সমর্থকরা জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত পাঁচটি বসতবাড়িতে হামলা ও পাল্টা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সালথা আর্মি ক্যাম্পের সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

