
প্রবীণ সাংবাদিক গাজী মো. মতিয়ার রহমানের মৃত্যু, আমতলী প্রেসক্লাবে শোক
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
আমতলী প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ, প্রবীণ সাংবাদিক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খলিফা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক গাজী মো. মতিয়ার রহমান (প্রায় ৬৫) আর নেই। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন গাজী মো. মতিয়ার রহমান। তাঁর মৃত্যুর খবর আমতলীতে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর মরদেহ দীর্ঘদিনের কর্মস্থল আমতলী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আনা হয়। সেখানে সহকর্মী সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন এবং শ্রদ্ধা জানান। এ সময় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে সকাল ১০টায় আমতলী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ তাঁর নিজ বাড়ি গুলিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোজখালী গ্রামের খলিফা বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে খলিফা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আমতলী প্রেসক্লাবের দীর্ঘদিনের একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে হারালাম। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ও দায়িত্বশীল মানুষ ছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গাজী মো. মতিয়ার রহমান সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম গাজী নিজাম উদ্দিনের দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি আনম আমজাদিয়া আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খলিফা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিজ এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর অবদান ছিল।
ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে আমতলী প্রেসক্লাব, স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং নিজ এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। সহকর্মী ও এলাকাবাসী তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
